সুুন্দর হতে বা থাকতে সবাই চায়। সুন্দর থাকতে হলে ত্বকের সুস্থতা খুব জরুরি। ইংরেজিতে এর নাম স্কিল রেজুভিনেশন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, পরিবেশদূষণের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে মানুষের ত্বকের ওপর। একই সঙ্গে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়ার কারণে অসময়ে ত্বকও যাচ্ছে বুড়িয়ে। ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া মানে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়া। ফলে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। এমনটি যে কারো ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। কিন্তু যদি চান, তা হলে বয়স বাড়লেও ত্বক থাকবে সুন্দর এবং নরম।
হাজার বছর ধরে মানুষের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা কীভাবে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়। ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রধানতম উপসর্গগুলোর মধ্যে একটি হলোÑ বলিরেখা। এটি হচ্ছে মুখে অসংখ্য ফাইনলাইনস এবং কোর্স লাইনস। আরেকটি হলোÑ ত্বক ঝুলে যাওয়া। অর্থাৎ মুখ ও গলার ত্বক ঝুলে যায়। পড়ে মুখ ও গলায় কালো স্পট, কালো দাগ, ব্রণের দাগ ও সূর্যরশ্মির দাগ। ত্বকের শুষ্কতাও এ ক্ষেত্রে দায়ী। শুষ্কতা হলোÑ মুখের ত্বক শুষ্ক হয়ে ত্বক ফেটে যাওয়া, ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। হতে পারে মুখের ত্বকে ছোট ছোট বা বড় বড় গর্তের সৃষ্টি। ত্বকে বয়সজনিত দাগ হওয়ার জন্য দায়ী হলোÑ ত্বকের অযতœ ও সূর্যরশ্মির আলো।
চিকিৎসা : এ সমস্যা দূরীকরণে অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞ ও কসমেটিক সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। এ সমস্যা নিরাময়ে আধুনিক চিকিৎসার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ লেজার থেরাপি, ট্রপিক্যাল রেটিনয়িক অ্যাসিড, ট্রপিক্যাল হাইড্রোকুইলোন উইথ স্টেরয়েড অ্যান্ড রেটিনয়েড, কেমিক্যাল পিলিং, বোটক্স থেরাপি, ফিলার থেরাপি, মাইক্রো ডারমাবরেশন, সাবসিশন, রেডিও সার্জারি, ইলেকট্রো সার্জারি, পাঞ্চ গ্রাফটিং, পাঞ্চ কাটিং অ্যান্ড ফ্লোটিং, অক্সিটাচ থেরাপি ইত্যাদি।
প্রতিরোধে করণীয় : সূর্যরশ্মি এড়িয়ে চলা। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। ওজন কমিয়ে ফেলা। ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা। পরিবেশদূষণ এড়িয়ে চলা। সঠিকভাবে ত্বকের ম্যাসাজ করা। পরিমিত সবজি খাওয়া। ক্রনিক রোগগুলোর চিকিৎসা নেওয়া। সঠিক কসমেটিকস ব্যবহার করা। অতিরিক্ত প্রসাধন ব্যবহার না করা। প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করা। দৈনিক কমপক্ষে দুবার মুখ ধুয়ে ফেলা। এসব নিয়মমতো করলে আপনার ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
ডা. একেএম মাহমুদুল হক খায়ের
চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ
লেখক : কসমেটিক সার্জন
সিনিয়র কলসালট্যান্ট (এক্স)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়
চেম্বার : ল্যাবএইড, কলাবাগান শাখা, ঢাকা
০১৭৬৬৬৬১৩৩১